মানবতাবাদ

মানবতাবাদের সাথে ধর্মের সংযুক্ত । মানবতাবাদ বোঝার পূর্বে প্রয়োজন নিজের ভিতরে মানবিকতাবোধ
জাগ্রত করা। মানবতাবাদ বলতে শুধুমাত্র অন্যের দুঃখ, কষ্টে অংশীদার হওয়া বুঝায় না, এর পরিধি ব্যাপক।
মানবতাবাদ হচ্ছে অন্যকে নিজের মত করে দেখতে জানা, যাবতীয় সৎ গুণাবলী, শিক্ষা ও পারদর্শিতার আলোকে
যথোপযুক্ত আসনে তাকে সমাসীন করা। মানবতার কল্যাণে যা কিছু প্রয়োজন তার চিন্তা ও বাস্তবায়নের প্রচেষ্টাই
মানবতাবাদ। নিজের যা আছে অন্যের জন্যও তা চাওয়া, নিজের জন্য যা আকাক্সক্ষা অন্যের জন্যও তা
আকাক্সক্ষা করা। তাই মনুষ্যত্ববোধ ও মানবিকতা বোধের যত ঘাটতি হবে মানবতাবাদও তত অপূর্ণ থাকবে।
মানবতাবাদ মূলত অনুভূতির বিষয়।
আল্লাহ পৃথিবীতে ধনী-গরিব, উঁচু-নিচু, সৃষ্টি করেছেন তিনি এর মাধ্যমে জেনে নিতে চান কে কৃতজ্ঞতা স্বরূপ
আর্ত মানবতার সেবায় এগিয়ে আসে। কাল কিয়ামতের সময়ে স্রষ্টা তার বান্দাকে বলবেন, আমি ক্ষুধার্ত ছিলাম,
তুমি আমাকে খাওয়াওনি। আমি তৃষ্ণার্ত ছিলাম তুমি আমার তৃষ্ণা নিবারণ করোনি। মূলত ক্ষুধার্থ, তৃষ্ণার্ত,
অভাবী বান্দাদের প্রতি মানবিকতাবোধ সম্পন্ন সৃষ্টির পরিচয় জেনে নিতে চান স্রষ্টা।
মাইকেল এইচ হার্ট বিশ্বের শ্রেষ্ঠ একশত মনীষীর জীবনীগ্রন্থে, প্রথম স্থান দেন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ
(স.)-কে। তার মানবিক গুণাবলীর কথা সবাই জানেন, এমনকি তাঁর শত্রুও তাঁর গুণাবলীতে মুগ্ধ হয়ে যেত।
ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে রোমান ও পারস্য সাম্রাজ্যে অন্য জাতির অধিকার ক্রীতদাসের চাইতেও খারাপ ছিল।
এমনকি সিরিয়ায় খ্রিস্টানদের তাদের জমির উপর অধিকার পর্যন্ত ছিল না। জমির মালিকানা হস্তান্তরের সাথে
সাথে তারাও হস্তান্তরিত হতো। হযরত ওমর (রা) যখনই এই দেশগুলো জয় করেন তখন তিনি স্থানীয় কৃষকদের
কাছে জমি ফিরিয়ে দেন। তাদের অধিকাংশ ছিল অমুসলিম। বাস্তবিক মানবিকতাবোধ এখানইে যেখানে ধর্ম ও
বর্ণ মানবিকতাবোধকে প্রতিবন্ধক করে রাখেনি। এ মহামানবদের কর্ম ও দর্শনই মানবতাবাদের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

মানবাধিকার কর্মী হওয়ার পূর্বে চাই সত্যিকার মানবতাবাদী হওয়া যেখানে ধর্ম, অঞ্চল বা মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে
মানুষকে মানুষ হিসেবে চিনতে ও মানবতার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে বাধা হয়ে দাঁড়াবেন না।
সেখানে মানুষ মানুষকে চিনবে। মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে। ভিন্নধর্মী বা ভিন্ন মতালম্বী হলেও কেউ কাউকে
হত্যা বা হত্যার মত গর্হিত কাজে প্ররোচিত করবে না। সারা পৃথিবীর মানবাত্মাকে তারা একই আত্মারূপে মনে
করবে। দেহের একটি অঙ্গের আঘাত যেমনি পুরো অনুভূতিতে আঘাত করে তেমনি পৃথিবীর একপ্রান্তের কোনো
মানুষের আঘাত, দুঃখ-পীড়া অন্য প্রান্তের মানুষও উপলব্ধি করবে।